সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সপ্তপর্ণীর গন্ধে পাগল-পারা

বেণুবর্ণা অধিকারী

কোথাও ছাতিম গাছ দেখবো আর আমি ছুটে যাব না এটা অসম্ভব। তীব্র এক আকর্ষণে যেভাবে রাধা ছুটে যেত কৃষ্ণের বাঁশী শুনে, তেমনই এর সুগন্ধই টেনে নিয়ে যায়।

Image may contain: flower, plant and food

হয়তো এই কারণেই ইংলিশে একে Indian Davils tree বলে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই গাছের পাশে দিয়ে বা কাছাকাছি পথ চলতে গেলে এর তীব্র গন্ধ মানুষকে বিমোহিত করবেই। যখন প্রযুক্তি এতটা উন্নত ছিলনা তখন কিছু এলাকা ছাড়া সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে আসতো সবখানে। ঘরে ঘরে চেরাগ জ্বলতো যার আলো এতটা আলোকিত করতো না। সে সময় মানুষ অনেক গাছের নিচে দিয়ে যেতেই ভয় পেত, আর এমন গন্ধ পেলে রীতিমত আতঙ্কিত হওয়ারই কথা। এছাড়া আরেকটা বিষয় হলো এজমা রোগীরা অনেকক্ষণ এই ফুলের নিচে থাকলে অস্বস্তি বোধ করতে পারে, হয়তো এ কারণেও হতে পারে।
যাই হোক এই ফুলের গন্ধ আমাকে এতটাই আকুল করে যে ভাবি যদি আবার জন্ম হতাম আমি তাইলে এই গাছই হতাম। কবিগুরুর এই গাছের প্রতি অনেক ভালবাসা ছিল, তাই শান্তিনিকেতনের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সার্টিফিকেট এর সাথে একটা করে ছাতিম পাতা দেয়া হয়। সেখান ছাতিমতলায় ক্লাশ ও আড্ডাও হয়।

এর বৈজ্ঞানিক নাম
Alstonia scholaris. এর পরিবার হলো Apocynaceae. এটা southern China, tropical Asia and Australasia র গাছ। ছাতিম গাছের অন্য বাংলা নাম ছাইতান, শয়তানের গাছ, আর চমৎকার একটা নাম হলো সপ্তপর্ণী। সাধারণত এর সাতটা করে পাতার বিন্যাসের জন্যই এই নামকরণ। এর ডালগুলো

Image may contain: plant, flower, nature and outdoor

সুবিনস্ত, দোতলা তিনতলা থাক থাক। শরৎ ও হেমন্তে এই গাছে ফুল ফোটে।

পরিতাপের বিষয় হলো এই গাছ যত্রতত্র কেটে ফেলা হচ্ছে বিধায় কমে যাচ্ছে দেশ এমন চমৎকার গাছ। কারণ এর ফল খাওয়া যায়না, এর কাঠে ফার্নিচার হয়না শুধুমাত্র ম্যাচের কাঠি, পেন্সিল, আর কফিন বক্স হয়। তবে এই গাছের ফুলের তীব্র গন্ধে কারো কারো এলার্জি হয়, মাথা ঘোরায়, বমি হয়। মানুষের এই স্বার্থপরতায় এমন অনেক গাছ কমে যাচ্ছে দেশ থেকে।

আমার একরাশ ভালবাসা ছাতিম ফুলের জন্য।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শুষনি শাক চেনেন কি?

শুষনি শাক (Marsilea minuta)  হাইপারটেনশন ও ঘুমজনিত সমস্যার মহৌষধ হিসেবে শুসনি শাক ব্যবহার করেন ময়মনসিংহের গারো ও কোচ উপজাতিরা। তারা এর রস ব্যবহার করেন কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগের ওষুধ হিসেবে। এটিকে শাক হিসেবেও রান্না করে খান তারা। ডঃ অসীমা চাটার্জী এই শাক থেকে এপিলেপ্সির ঔষধ আবিস্কারের পেপার বের করেছেন। বাংলাদেশের সর্বত্রই এ উদ্ভিদটি পাওয়া যায়। অনেকে শুষনী আর আমরুলি শাককে একই মনে করেন। আসলে শুষনি শাকে পাতা ৪ ভাজ, কিন্তু আমরুলি হলো ৩। আরেকটা পার্থক্য হলো শুষনী শাক টক স্বাদযুক্ত নয়, কিন্তু আমরুলি টক। এর বৈজ্ঞানিক নাম Marsilea minuta  আমরুল শাক থেকে শুষনি শাক পাতা আকারে বড়। তাছাড়া আমরুল লতানে ছোট গুল্ম উদ্ভিদ হলেও শুষনি সেরকমটি মোটেও নয়। শুষনি শাক

বৃক্ষকথা, Brikkho-Kotha: পাদাউকের প্রতি ভালবাসা

বৃক্ষকথা, Brikkho-Kotha: পাদাউকের প্রতি ভালবাসা : পাদাউক গাছ মুগ্ধ হতাম যার বিশালতা আর পাতার বিন্যাসে, কল্পনা ছিল তার ফুল না জানি কেমন হবে? ভর দুপুরে একরাশ রৌদ্র গায়ে মেখে ছুটে গেলাম সেই...

আমার কানাইবাঁশি

বেণুবর্ণা অধিকারী যে রঙ ঈর্ষনীয় অনেক ফুলের কাছে। অথচ সে খুবই ক্ষুদ্র, অবহেলিত। " ফুল বলে ধন্য আমি, ধন্য আমি মাটির 'পরে" এটা কানছিঁড়া/ কানাইবাঁশি/ঘাসফুল/কানশিরা/ কানদুলি/ কানাইলতা। এর বৈজ্ঞানিক নাম Commelina benghalensis. নানাবিধ ঔষধি গুণসম্পন্ন এই ক্ষুদে গাছ। মূলতঃ জীবানু নাশক গুল্ম। কানের ইনফেকশনে বা চোখের অঞ্জলি হলে এর রস করে দিলে উপশম হয়, গাছকে একটু গরম করে তারপর রস বের করে দিতে হয়। এছাড়া কুষ্ঠ, একজিমা, দাদ রোগেও এর প্রচলন আছে। পোকার আক্রমনের প্রদাহে এর রস লাগালে দ্রুত আরোগ্য হয়। Commelinaceae পরিবারের গাছ। অনেকে একে জোনাকি শাক বা পাতা বলে থাকে। নরম কাণ্ড বিশিষ্ট এই গাছ ছায়ায় নিজেদের কলোনী করে বাস করে। পাতার গোড়ায় ছোট্ট নীল ফুল আর এর পাতার সবুজতা মনকে সজীব করে। অনেকেই একে শাক হিসেবে খেয়ে থাকেন। তবে কি কারণে খান এবং খেতে কেমন জানিনা। এর আরো কোন ব্যবহার কি আছে?