সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঔষধিগুল্মে সমৃদ্ধ আমার দেশ

 বেণুবর্ণা অধিকারী

কাপাসিয়ায় একবার গিয়েছিলাম এক আয়ূর্বেদিকের কাছ থেকে কিছু গাছ চিনতে, এদের ব্যবহার জানতে। তখন সে এই ফুল হাতে দিয়ে বলেছিল এটা মুখে দিয়ে কিছুক্ষণ চিবিয়ে ফেলে দিন। ভাবলাম কি আর এমন হবে, চিবুলাম। ভয়ানক ঝাল আর মনে হলো মুখটা ভার হয়ে গেছে। দাঁতের ব্যথায় এনেস্থিসিয়া দিলে যেমন হয়।

তখন উনি বললেন আমরা কবিরাজরা এই গাছটা দিয়ে দাঁতের ব্যথার প্রাথমিক চিকিৎসা করি। মধ্যরাতে দাঁত ব্যথায় কষ্ট পেলে ডাক্তার কই পাবে? তখন আমাদের স্মরণাপন্ন হয় গ্রামবাসী।

আমিও একদিন আমার অফিসের এক সহকারী দাঁত ব্যথায় বাসায় চলে যেতে চাচ্ছে। তাকে বললাম এক কাজ করুন এই ফুলটা কিছুক্ষণ চিবিয়ে ব্যথার জায়গায় দিয়ে রাখুন। এবং কতক্ষন আর ব্যথা থাকে না সেটা জানাবেন। সে দেখলো আধাঘন্টা ব্যথা আর বোঝা যায় না।

এই সুন্দর ছোট্ট ফোলা ফোলা ফুলটার নাম হলো বনগাঁদা, সূর্যমুখী ফুলের ছোট ভার্সন বলে একে অনেকে সূর্যকন্যাও বলে। বৈজ্ঞানিক নাম
Acmella calva (DC.) এর চাকমা নাম মারহাটিটিগা

Image may contain: flower, plant, nature and outdoor


Image may contain: plant, flower and nature

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শুষনি শাক চেনেন কি?

শুষনি শাক (Marsilea minuta)  হাইপারটেনশন ও ঘুমজনিত সমস্যার মহৌষধ হিসেবে শুসনি শাক ব্যবহার করেন ময়মনসিংহের গারো ও কোচ উপজাতিরা। তারা এর রস ব্যবহার করেন কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগের ওষুধ হিসেবে। এটিকে শাক হিসেবেও রান্না করে খান তারা। ডঃ অসীমা চাটার্জী এই শাক থেকে এপিলেপ্সির ঔষধ আবিস্কারের পেপার বের করেছেন। বাংলাদেশের সর্বত্রই এ উদ্ভিদটি পাওয়া যায়। অনেকে শুষনী আর আমরুলি শাককে একই মনে করেন। আসলে শুষনি শাকে পাতা ৪ ভাজ, কিন্তু আমরুলি হলো ৩। আরেকটা পার্থক্য হলো শুষনী শাক টক স্বাদযুক্ত নয়, কিন্তু আমরুলি টক। এর বৈজ্ঞানিক নাম Marsilea minuta  আমরুল শাক থেকে শুষনি শাক পাতা আকারে বড়। তাছাড়া আমরুল লতানে ছোট গুল্ম উদ্ভিদ হলেও শুষনি সেরকমটি মোটেও নয়। শুষনি শাক

বৃক্ষকথা, Brikkho-Kotha: পাদাউকের প্রতি ভালবাসা

বৃক্ষকথা, Brikkho-Kotha: পাদাউকের প্রতি ভালবাসা : পাদাউক গাছ মুগ্ধ হতাম যার বিশালতা আর পাতার বিন্যাসে, কল্পনা ছিল তার ফুল না জানি কেমন হবে? ভর দুপুরে একরাশ রৌদ্র গায়ে মেখে ছুটে গেলাম সেই...

আমার কানাইবাঁশি

বেণুবর্ণা অধিকারী যে রঙ ঈর্ষনীয় অনেক ফুলের কাছে। অথচ সে খুবই ক্ষুদ্র, অবহেলিত। " ফুল বলে ধন্য আমি, ধন্য আমি মাটির 'পরে" এটা কানছিঁড়া/ কানাইবাঁশি/ঘাসফুল/কানশিরা/ কানদুলি/ কানাইলতা। এর বৈজ্ঞানিক নাম Commelina benghalensis. নানাবিধ ঔষধি গুণসম্পন্ন এই ক্ষুদে গাছ। মূলতঃ জীবানু নাশক গুল্ম। কানের ইনফেকশনে বা চোখের অঞ্জলি হলে এর রস করে দিলে উপশম হয়, গাছকে একটু গরম করে তারপর রস বের করে দিতে হয়। এছাড়া কুষ্ঠ, একজিমা, দাদ রোগেও এর প্রচলন আছে। পোকার আক্রমনের প্রদাহে এর রস লাগালে দ্রুত আরোগ্য হয়। Commelinaceae পরিবারের গাছ। অনেকে একে জোনাকি শাক বা পাতা বলে থাকে। নরম কাণ্ড বিশিষ্ট এই গাছ ছায়ায় নিজেদের কলোনী করে বাস করে। পাতার গোড়ায় ছোট্ট নীল ফুল আর এর পাতার সবুজতা মনকে সজীব করে। অনেকেই একে শাক হিসেবে খেয়ে থাকেন। তবে কি কারণে খান এবং খেতে কেমন জানিনা। এর আরো কোন ব্যবহার কি আছে?